এটা একটা ভারতীয় চিকিৎসা পদ্ধতি যার খোঁজ মুম্বাই এর ডাঃ লাজপত রায় মেহেরার দ্বারা হয়। শরীরের মধ্যেই শরীরকে ঠিক করার জন্য সব রকম কেমিক্যাল বানানোর ক্ষমতা থাকে। কিন্তু যে কোনো কারনবশতঃ যেমন খাওয়ার উপর নিয়ন্ত্রন না থাকলে, যেমন- সঠিক প্রক্রিয়ায় ওঠা বসা না করলে, দূষিত বাতাবরন, মানসিক প্রভাব, নিজের সমর্থের বাইরে অধিক মানসিক বা শারীরিক কাজ, nutrition –এর অভাব, ভয় অথবা রাগ ইত্যাদি থেকে শরীরের অঙ্গ এবং গ্রন্থির কাজ এ প্রভাব পরে, যার কারনে তার কাজ ধীরগতিতে হয়ে যায় অথবা খারাপ হয়ে যায়। এর ফলে ওই গ্রন্থি থেকে তৈরি হওয়া হরমোন এবং কেমিক্যাল –এর অভাব দেখা যায়। এর কারনে শরীরের অ্যাসিড-আলক্যালি ব্যালান্স বিগড়ে যায় এবং এক আধটা জিনিসের অভাবে অসুখ দেখা যায়। নিউরোথেরাপি তে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের উপর বিশেষ রকমের প্রেসার বা অন্য উপায়ে শরীরের রক্ত, লিম্ফ এবং নার্ভস এর সারকুলেশান কে নিয়ন্ত্রিত করা হয়। আর প্রয়োজননুসারে বিভিন্ন গ্রন্থিকে stimulate করে তাদের কাজকে সঠিক ভাবে চালানো হয়।

নিউরোথেরাপীতে কোন প্রকার ওষুধ বা অন্য কোন কিছুর ব্যাবহার হয় না। এই ট্রিটমেন্ট দেওয়ার সময় therapists দু দিকে চেয়ারের সাহায্যে নিজের পা এর মাধ্যমে রোগীর হাত, পা, থাই ইত্যাদির উপর বিশেষ প্রক্রিয়া তে প্রেসার দেয় যার থেকে রোগীর কোনো প্রকার অসুবিধা হয় না। এই ট্রিটমেন্ট এক দিনের বাচ্ছা থেকে শুরু করে ১০০ বছরের লোকেদের ও দেওয়া যায়। একদম ছোটো বাচ্ছা এবং বয়স্ক অথবা কমজোর লোকেদের হাত দিয়ে এবং মধ্য বয়স্ক লোকেদের পা দিয়ে ট্রিটমেন্ট দেওয়া হয়।

অন্য কোন চিকিৎসাতে ওষুধ দেওয়া হয় যা শরীরের ভিতরের কেমিক্যাল এর উপর ভিত্তি করে বানানো হয়। কিন্তু এটা শরীরের বাইরের জিনিস, তাই শরীর তাকে যতটা দরকার ততটা ব্যাবহার করতে পারে না। কখনও কখনও অসুখ এক দিকে থেকে যায় আর এই ভুল ওষুধ এর খারাপ প্রভাব থেকে অন্য কোন ভয়ানক অসুখ জন্ম নেয়। যেমন diabetes-এর রোগী যখন এক বছর ধরে ওষুধ খায় তখন আগে গিয়ে ওই ওষুধ গুলোর side effect-এর কারনে ওই রোগীর কান এবং চোখে খারাপ প্রভাব পরে এবং হার্টের অসুখ বা কিডনি failure- এর মত অসুখ হতে পারে। নিউরোথেরাপী এই সব side effect থেকে বাচায়। কারন কোনো প্রকার ওষুধ খাওয়ানো হয় না।

যদি শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি কোনো কারণে কম কাজ করে এবং ওই সময় যদি কোন ভাইরাস বা ব্যাকটিরিয়া শরীরের উপর আক্রমন করে তখন শরীর সেটার মোকাবিলা করতে পারে না এবং শরীরে অসুখ দেখা দেয়। অ্যালাপাথিতে এদের মারবার জন্যে ওষুধ দেওয়া হয়। এটা ব্যাকটিরিয়া কে মেরে ফেলে, কিন্তু ভাইরাসের উপর ওষুধ প্রভাব ফেলার আগেই ভাইরাস নিজের রুপ বদলে ফেলে এবং ওষুধ আর কাজ করে না। কিন্তু ওই ওষুধ এর দ্বারা পেট খারাপ হয়, লিভার এবং হজম শক্তি খারাপ হয়ে যায়, খিদে চলে যায় এবং শরীরের ভাল ব্যাকটিরিয়া গুলি ও মরে যায়। এই কারনে কখনও কখনও ওই ব্যাক্তি আবার রোগের শিকার হয়ে যান এবং এটা ক্রমাগত চলতেই থাকে।

কিন্তু নিউরোথেরাপী ট্রিটমেন্টের দ্বারা শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তিকে বাড়িয়ে দেওয়া হয়, যার থেকে ভাইরাস বা ব্যাকটিরিয়া দুটোকেই মেরে ফেলার শক্তি শরীরে তৈরি হয়, আর এইভাবে কোনো ওষুধ ছাড়াই বা কোনো side effect ছাড়াই শরীরকে সুস্থ করা হয়। এইভাবে ম্যালেরিয়া এর ব্যাকটিরিয়াকেও মেরে ফেলা যায় যার রিপোর্ট আমাদের কাছে আছে।

কিছু বংশগত অসুখ আছে বা কিছু এমন জেনেটিক অসুখ আছে, medical dictionary-তে যাদের কোনো চিকিৎসা নেই। কিন্তু যেহেতু এটা শরীরের ভিতরের বিগড়ে যাওয়া সমস্যা, তাই শরীরের অঙ্গ কে উদ্দীপ্ত করা হলে ওই অসুখ গুলোতে কিছু দিনের ট্রিটমেন্ট এর পর অনেক আরাম পাওয়া যাবে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় – Parkinson’s, Motor Neuron Disorder (MND), Multiple Sclerosis (MS), Muscular Dystrophy, Thalassemia, Guillain- Barre Syndrome, Down Syndrome ইত্যাদি।

কখনও কখনও কঠিন অসুখ হলে বা কোনো দুর্ঘটনা হলে, এমন কিছু শারীরিক সমস্যা থেকে যায় যা থেকে সারাজীবন ব্যাথা থেকে যায়। এরকম অসুখেও নিউরোথেরাপী খুবই লাভজনক।

নিউরোথেরাপীতে নাভী কে কেন্দ্র মেনে ট্রিটমেন্ট করা হয়। নাভীকে ঠিক করা হলে পেটের অনেক কঠিন সমস্যা ও ঠিক হয়ে যায়। Digestive System এর সাথে সম্বন্ধিত অনেক কঠিন সমস্যাও যেমন Constipation, Acid-Alkali,  পেটে ব্যাথা, খিদে না পাওয়া, Diarrhea – এই সবকটির জন্য নিউরোথেরাপী খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ভারতবর্ষে এটা প্রাচীনকাল থেকেই মানা হয় যে কোনো অসুখের শিকড় পেট থেকে শুরু হয়। নিউরোথেরাপীতেও এটা মানা হয়। যদি কারোর Hypothyroidism  হয় তাহলে এর কারন হল – থাইরয়েড গ্ল্যান্ড এর basic কেমিক্যাল হল Tyrosine Amino Acid। যা হজম এর দ্বারা Intestine এ তৈরি হয়। যদি হজম ঠিক করে না হয় তাহলে এটা তৈরি হবে না। এর ফলে থাইরয়েড গ্ল্যান্ড এর T3-T4 ও তৈরি হবে না এবং রক্তে TSH এর পরিমাণ বেড়ে যাবে। থাইরয়েড কাজ করার কারনে যে কেমিক্যাল এর দ্বারা তৈরি হয় সেটা তৈরি হবে না, আর শরীর এ এর পরিমান কমে যাবে। সারা শরীরে এর প্রভাব পড়বে। যদি হজম ঠিক করে হয় তবে Tyrosine Amino Acid  সঠিক মাত্রায় তৈরি হবে এবং থাইরয়েড এর কাজ ঠিক থাকে আর শরীর ও ঠিক থাকে।

এইভাবেই যদি Osteoporosis অর্থাৎ হাড়ে Calcium কমে যায় তাহলে রক্তেও Calcium কমে যাবে। এটা এরকম হয় কারন  Calcium absorb হচ্ছে না। এর জন্যে যতই Calcium এর ওষুধ খাওয়া হোক না কেন, এই অভাব পূরণ হবে না। যদি Intestine ঠিক করে কাজ না করছে এবং হজম সঠিক ভাবে না হচ্ছে তাহলে Calcium Intestine-এ absorb হবে না। আর Calcium রক্তেও পৌঁছাবে না এবং যদি রক্তেও Calcium  কম হয় তাহলে হাড়েও Calcium এর পরিমাণ কমে যাবে। নিউরোথেরাপী Intestine – এর কাজকে ঠিক করে। অঙ্গগুলি সঠিকভাবে কাজ করলে Digestive System ঠিক হয়ে যাবে, যার ফলে Calcium absorb হতে শুরু করবে, আর এইভাবে Osteoporosis – এর মত অসুখ ও ঠিক হতে পারে।

যদি হাড়ে Calcium বেশী হয়ে যায়, সেটাকেও নিউরোথেরাপী ঠিক করতে পারে। Calcium বেশী হলে Parathyroid gland কে stimulate করা হয় যা Calcium কে হাড় থেকে বের করে রক্তে মিশিয়ে দেবে। এর সাথে Heparin নামক রক্ত সঞ্চার বাড়ানোর ট্রিটমেন্ট দিতে হবে, যা রক্ত সঞ্চার বাড়িয়ে যে Calcium রক্তে বেড়ে আছে তার সঠিক মাত্রায় এনে অনুপযোগী বস্তুর মত শরীরের বাইরে করে দেবে। এইভাবে বিভিন্নরকম অসুখ যেমন – Ankylosing Spondylitis বা Kidney Stone এর মতো অসুখেও আরাম পাওয়া যাবে।

শরীরে লিভার এবং Lungs এ Heparin নামক কেমিক্যাল তৈরি হতে থাকে যা শরীরে Clots হতে দেয় না। যদি রক্ত সংবহনে Clots তৈরি হতে থাকে, তাহলে এর মানে হল যে শরীরে Heparin তৈরি হচ্ছে না। আর এই Clots, Heart এ গিয়ে বাধার সৃষ্টি করতে পারে যার থেকে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। অথবা এই Clots, Brain এ গিয়ে রক্ত সংবহনে বাধার সৃষ্টি করলে Paralysis হয়ে যায়।

আমরা Pancreas, Liver এবং Lungs কে activate করে Heparin তৈরি করব, যা ওই Clots কে dissolve করবে  বা ভেঙ্গে দেবে। আস্তে আস্তে রোগীর রক্তে সবকটি Clots খুলে যাবে এবং যেটা অনেক সময় ধরে আটকে আছে, সেটাও ভেঙ্গে যাবে এবং Paralysis বা Heart Disease এ blocks ও ঠিক হতে শুরু করবে।

যদি Brain এ বা রক্তে কোন ভাইরাস ঢুকে যাওয়ার কারণে ব্রেনের কাজ বিগড়ে যায় বা ব্যাক্তি অসুস্থ হয়ে যায় – তার রোগ প্রতিরোধ শক্তি কমে যায়, আর অনেকরকম ভাইরাস থেকে হওয়া ছোটো ছোটো অসুখ থেকে সেটা ভয়ানক রুপ ধারন করে। এক্ষেত্রে নিউরোথেরাপীতে Thymus gland এবং Lymph gland কে stimulate করে রোগীর রোগ প্রতিরোধ শক্তিকে বাড়ানো হয়, যার থেকে রোগী ঠিক হয়ে যায়। এইভাবে Aids বা Cancer এর মতো কঠিন রোগেও আরাম পাওয়া যায়।

Cholesterol শরীরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারন এর থেকে শরীর Steroid hormone বানায়, যা মানুষের শরীরে রোগ হওয়া বা রোগ ঠিক হওয়ার ক্ষেত্রে সাহায্য করে। কিন্তু লিভার যদি ঠিক মত কাজ না করে তবে শরীর এ Cholesterol এর সঞ্চয় হতে থাকবে এবং সে ধমনীর মধ্যের দেওয়ালে জমতে শুরু করে। এর থেকে ধমনি আস্তে আস্তে সঙ্কীর্ণ হতে শুরু করে এবং যার থেকে রক্ত সঞ্চার এ বাধার সৃষ্টি হয় এবং Heart Disease, Kidney Disease এবং আরো নানারকম রোগের জন্ম নেয়। নিউরোথেরাপী লিভার এর কাজ কে ঠিক করে Cholesterol কে store করে শরীর কে ঠিক রাখে। যার থেকে অনেক রোগের সম্ভাবনা আর থাকে না।

মহিলাদের monthly period  এ চার দিনই bleeding হওয়া উচিত। এটাই উপযুক্ত। কিন্তু এটা কিছু মহিলা জানেনই না। মহিলাদের monthly period  এ অনেক সমস্যা আসে তাদের খাওয়া-দাওয়া, চলা-ফেরা এবং কিছু খারাপ অভ্যাসের কারণে – যার থেকে হরমোনে সমস্যা দেখা দেয় এবং এর থেকে monthly cycle  কম অথবা বেশি হয়। এটা স্বাভাবিক নয় – এক্ষেত্রে যদি Hypothyroid বা রক্তে Calcium বা Hemoglobin কম হয়, বা যদি Uterus বা Ovary তে Cyst বা Fibroid হলে Bleeding বেশি হয়। এইরকম সব সমস্যাকে আমরা নিউরোথেরাপীর দ্বারা ঠিক করতে পারি। যদি monthly cycle এ চার দিনের বেশি Bleeding হয় তাহলে বিকলাঙ্গ বাচ্ছা জন্ম নিতে পারে। এইরকম বাচ্ছাদের নিউরোথেরাপী এর দ্বারা অনেক উপকার সম্ভব হয়।

Monthly cycle কম আসার অনেক কারণ হতে পারে – শরীরের মধ্যে কোন কেমিক্যাল তৈরি না হওয়া, Prolactin level  বেড়ে যাওয়া বা Hormones এ সমস্যা, Ovary বা Uterus  এ Cyst হওয়া, বা Uterus নিজের জায়গাতে না থাকা ইত্যাদি। এর মধ্যে কোন একটা কারণে monthly cycle কম হতে পারে অথবা নাও হতে পারে। এক্ষেত্রেও digestive system কে ঠিক করে, Uterus কে set করে, বা Cyst  এর জন্যে ট্রিটমেন্ট করলে সমস্যার মূল কারণ ঠিক হবে এবং monthly cycle ঠিক করে আসবে। যদি Uterus ছোটো আকারের হয় তাহলে ওই মহিলা মা হতে পারবেন না। এইরকম মহিলাদের যখন আমরা জননাঙ্গ তে রক্ত সঞ্চার বাড়ানোর ট্রিটমেন্ট দিই, তখন এর থেকে Uterus স্বাভাবিক আকারের হয়ে যায় এবং ওই মহিলা একটা সুস্থ সন্তানের জন্ম দিতে পারে।

আমাদের Pancreas, Somatostatin নামক হরমোন তৈরি করে যা abnormal growth কে আটকায়। আমরা নিউরোথেরাপীর দ্বারা Pancreas কে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য stimulate করে Fibroids বা Cyst কেই শুধু নয়, ব্রেনের টিউমারকেও ঠিক করতে পারি।

সবাই জানে যে যোগাসন ভারতবর্ষের একটি প্রাচীন এবং খুবই প্রভাবশালী চিকিৎসা পদ্ধতি। যোগাসন এর দ্বারা মাংস-পেশি এবং নার্ভগুলোকে টেনে তাদের নমনীয় করা হয়। আর এইভাবে শরীর কে সুস্থ এবং রোগমুক্ত করা হয়। একদিকে থেকে দেখা যায়, যে কাজ যোগাসন দ্বারা নিজে থেকেই করা যায় – ওই কাজ ই LMNT দ্বারা অন্য কারোর জন্য করা যায়। যখন আমরা অন্যের থাই এবং হাত এ নিজের পা দিয়ে চাপ দিই, তখন যে muscles শক্ত বা সঙ্কুচিত হয়ে থাকে, আমাদের চাপ দেওয়ার পর সেটাতে টান পরে এবং যার থেকে সেটা নমনীয় হয়ে যায়। একটা মুখ্য লাভ হল যে পঙ্গু এবং কম বুদ্ধির বাচ্চারা যোগাসন করতে পারে না। যার ফলে তাদের Constipation, বদহজম এবং বারবার infection এর মতো হতে থাকে। তখন নিউরোথেরাপীর দ্বারা তাদের শুধু আরামই মেলে না, এর সাথে তাদের অবস্থার ও অনেক উন্নতি হয়।