সুস্থ থাকার জন্যে ডঃ লাজপতরায় মেহেরার কিছু পরামর্শ | কিছু অন্য পরামর্শ :-



● চোখের কোণাতে দুটো ছোটো ছিদ্র থাকে, যাকে lachrymal ducts বলা হয়। রোজ স্নান করার সময় এই duct কে ৩০ বার আস্তে আস্তে ম্যাসাজ করলে চোখের জলের সঞ্চার এবং চোখের লেন্সের মধ্যের প্রেসার ঠিকভাবে হবে এবং Glaucoma থেকে চোখকে বাঁচানো সম্ভব হবে। Glaucoma হবার পরেও অনেক রোগীর এই ট্রিটমেন্ট থেকে উপকার হয়েছে। যাদের চোখ থেকে ক্রমাগত জল বেরোতে থাকে – তাদের জন্যেও এটা খুবই উপকারি ট্রিটমেন্ট।

● বিরাসন বা ধ্যান করলে concentration power বা একাগ্রতা শক্তি বেড়ে যায়, যার থেকে memory বা স্মরণশক্তি বেড়ে যায়। বাচ্চা হবার ক্ষেত্রে খুবই উপকার হয়। ঈশ্বরকে পাওয়ার জন্যেও উপকারি। যাদের fits আসে, তাদের LMNT treatment ছাড়া এই যোগব্যায়ামগুলি শিখিয়ে দিলে খুবই উপকার হবে।

● কিছু ব্যাক্তি দরজার বাইরে লোকেদের জন্যে musical bells লাগিয়ে থাকে। সকালে ঘুমোনোর সময়ে যদি দুধওয়ালা ওই ঘণ্টা বাজায় তাহলে তাড়াতাড়ি উঠতে গিয়ে কিছু লোকেদের কানে নিজে থেকেই ঘণ্টা বাজতে থাকে, কারণ ওই bell এর আওয়াজ খুবই তীব্র হয়। এর থেকে vertigo অর্থাৎ মাথাঘোরাও হতে পারে। তাই ঘরে musical bells এর জায়গাতে আওয়াজযুক্ত buzzer লাগানো উচিত।

● কানের মধ্যে একটা wax থাকে যা কানকে রক্ষা করে। তাই কান থেকে ময়লা বের করা উচিত নয়। কারণ আপনি বের করতে থাকবেন এবং শরীর বানাতে থাকবে। কানের মধ্যে তেলের ফোঁটা দেওয়া উচিত নয়, কারণ এর থেকে কানের পর্দার ছিদ্র বা ear drum এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। অথবা ওই ছিদ্র বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যার ফলে কেউ কম শুনতে পারে। কিন্তু কেউ পাতলা কাপড় বা তুলো দিয়ে হালকাভাবে তেল লাগাতে পারে।

● Antibiotics এর ওষুধ খেলে বা চা, কফি, সিগারেট ইত্যাদিতে যে caffeine বা nicotine থাকে, এদের থেকে কানের শিরাগুলি দুর্বল হয়ে যেতে পারে, যার থেকে শ্রবণশক্তিও চলে যেতে পারে। এছাড়াও এই ওষুধগুলি শরীরে vitamin K তৈরি করা ভালো bacteria-গুলির উপরে সমস্যা তৈরি করে। যদি শরীরে vitamin K এর কম হয় তাহলে রক্তের clotting হবে না। এর ফলে শরীরের যে কোনো জায়গাতে কোনো কারনে রক্ত পড়া শুরু হলে (hemorrhage) সেটা বন্ধ হবে না। মহিলাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা হলে তাদের menses, যা চার দিন পরে বন্ধ হওয়া উচিত, সেটা বন্ধ হবে না। রক্তাল্পতার কারনে দুর্বলতা, মাথাঘোরা বা অন্য কোনো অসুখ আসবে।

● কানের পিছনে তিনটে শিরা থাকে, যাদের semi circular canals বলা হয়। এর মধ্যে একটাতে জলের মতো তরল ফ্লুইড ভরা থাকে, যা আমাদের শরীরকে equilibrium বা balance বা শরীরের সামঞ্জস্যতা বজায় রাখে। যদি আমরা ওঠবার সময় তাড়াতাড়ি লাফিয়ে উঠি, তাহলে তাদের কোনো একটি থেকে জল বাইরে বেরিয়ে আসার ফলে মাথা ঘুরে যায়, যাকে vertigo বলা হয়। তাই ঘুম থেকে ওঠবার সময় ঈশ্বরের নাম নিয়ে বিছানাতে বসে কমপক্ষে ৩০ সেকেন্ড পড়ে ওঠা উচিত।

● কানের ছিদ্রর ভিতরের দেওয়ালে ভিতর থেকে বাইরের দিকে এক-এক বার চাপ দিলে কান খুলে যায়, আর যদি তিনবার চারদিকে প্রেসার দেওয়া যায় তাহলে high blood pressure কম হয়ে যায়। রোজ স্নান করার পড়ে এইরকম করা হলে blood pressure কখনও বাড়বে না। এটা একটা আশ্চর্যের বিষয়।

● সর্দি হলে নাককে খুব জোরে বা খুব চেপে পরিস্কার করা উচিত নয়। যদি পরিস্কার করতেই হয় তাহলে দুটো নাককেই খোলা রেখে পরিস্কার করা উচিত।

কারণ – যদি নাক বন্ধ থাকে আর কেউ একটা নাককে বন্ধ রেখে আর একটা থেকে জোর করে হাওয়া বের করতে চেষ্টা করে, তাহলে যে mucus বা নোংরা থাকে, সেটা কানের শিরার মধ্যে ঢুকে যাবে এবং এর ফলে কানে কম শোনা বা কান বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

● যদি নাক দিয়ে জল পড়ে, তাহলে দশ মিনিট বাঁদিকে ঘুরে শুলে সূর্য নাড়ী কাজ করা শুরু করবে এবং নাক থেকে জল পড়া বন্ধ হয়ে যাবে। যাদের সকালবেলা ঠাণ্ডা বা allergy এর কারনে এইরকম হয়, তাদের ঘুম থেকে ওঠবার পর দশ মিনিট পর্যন্ত বাঁদিকে ফিরে শুয়ে কিছুক্ষন পরে ওঠবার অভ্যাস করতে হবে। এইরকম কিছুদিন করলে এইরকম সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

● Cramps হলে দুটো হাতকে মাথার উপর নিয়ে গিয়ে চুটকি বাজালে cramps ঠিক হয়ে যায়। একইভাবে হাই উঠলে মুখের সামনে চুটকি বাজালে মুখ খুলে থাকা এবং jaw আটকে যাওয়া ইত্যাদি হবে না।

● প্রত্যেকবার যখন hair dye চুলের রঙ বদলানো হয় – সেটা মেহেন্দি হোক বা অন্য কিছুই হোক – এর কেমিক্যাল ত্বকের ছিদ্র দ্বারা রক্তে প্রবেশ করে এবং কমপক্ষে ৪০ দিন পর্যন্ত প্রস্রাবে আসে। এই dye-গুলি থেকে একপ্রকার cancer ও হতে পারে।

কারণ – রক্তের সমস্ত নোংরা কিডনিকেই বাইরে বের করতে হয়। dye প্রস্রাবে আসে – এর মানে হল কিডনিকে সাধারণ কাজ ছাড়াও ৪০ দিন পর্যন্ত এই dye কে বের করার জন্যে  extra বাজে কাজ করার জন্যে বাধ্য করা হয়। একটু ভাবুন – যারা অনেক বছর ধরে প্রত্যেক মাসে অনেকবার এই dye ব্যবহার করেছেন, তাদের কিডনিকে কতটা বেশী কাজ করতে হয়েছে। এর ফলে যদি কিডনি দুর্বল হয়ে যায় তাহলে cancer বা অন্য কোনো বড় অসুখ আসতে পারে।

● পায়ের বুড়ো আঙ্গুল এবং তারপরের আঙ্গুলের মাঝখানে একটা নাড়ী থাকে, এটা যদি কাজ না করে তাহলে কামনা-বাসনা পূরণ করার ভাবনাগুলি কাজ করাও বন্ধ হয়ে যায় বা শেষ হয়ে যায়। এই কারনেই সাধুবাবারা খড়ম পড়ে থাকেন যার থেকে ওই নাড়ী কাজ না করার ফলে তাদের এইসব চিন্তা-ভাবনা আর আসে না।

● গায়ত্রী মন্ত্র হল ২৪ অঙ্কের। কথিত আছে যে, এর শুদ্ধ উচ্চারন করলে আমাদের শরীরের ২৪ টি valve, ২৪ টি বড় নাড়ী এবং ২৪ টি ছোটো নাড়ী – খুলে যায়।

পূজনীয় গুরুজির কিছু পরামর্শ মহিলাদের জন্যে –

● Delivery এর সময় অন্ধকার এবং গরম ঘরে প্রসব হওয়া উচিত, যাতে ওই মহিলার শরীর থেকে অনেক ঘাম বেরোয়, যার থেকে তার শরীরের toxins অর্থাৎ অনাবশ্যক খারাপ জিনিসগুলি বেরিয়ে যায় যা মা এবং বাচ্চা দুজনের জন্যেই উপকারি হয়। আগে প্রসবের সময় ঘরে একটা উনুনের মতো রাখা হত যাতে গরমের কারনে মহিলার শরীরে অনেক ঘাম হয়। বর্তমানে AC room এ delivery করান হয়, যা মা এবং বাচ্চা দুজনের জন্যেই ক্ষতিকারি।

● প্রসবের ব্যাথার সময় শরীরে prostaglandin নামক হরমোন বেরোয় যা uterus কে সঙ্কুচিত করার জন্যে stimulate করে। কিন্তু প্রসব যন্ত্রণা মানসিক কারণের জন্যে বেশী অনুভূত হয়। ব্যাথা হওয়ার প্রধান কারণ হল মেয়েরা ওই সময় uterus এর muscle কে খুবই শক্ত করে নেয়, কারণ তার মা তাকে ছোটো থেকেই ভয় দেখায় যে বাচ্চা হওয়ার সময় খুবই ব্যাথা লাগে। আমাদের ট্রিটমেন্টে delivery সহজ হবে। দেশজুড়ে এমন অনেক মহিলা আছে যাদের labor pains অর্থাৎ প্রসব যন্ত্রণার সময় আমাদের ট্রিটমেন্ট দেওয়ার কারনে operation এর প্রয়োজন হয় না।  

● প্রসবের সময় এবং পরেও প্রত্যেক মহিলাদের শরীর থেকে একটা বিশেষ ধরনের গন্ধ বেরোয়, যা প্রকৃতি এই কারণে বানিয়েছে যাতে তার স্বামী ওই গন্ধের কারণে তার থেকে দূরে থাকে এবং তাকে না ছোঁয়। কিন্তু ওই মহিলার মায়ের ওই গন্ধ নাকে আসে না এবং তার খারাপও লাগে না। এটা প্রকৃতির একটা দান।

● বাচ্চার জন্ম normal অর্থাৎ স্বাভাবিক ভাবেই হওয়া উচিত। যদি বাচ্চা cesarean হয়, আর যদি সে জন্মের ঠিক পরেই কেঁদে ওঠে তাহলে বুঝতে হবে সে ঠিক আছে। ডাক্তার delivery এর আগে নার্স এবং আয়াকে দুটি পরামর্শ দিয়ে থাকে। প্রথমত সে ততক্ষন বাচ্চার নাড়ী কাটবে না, যতক্ষণ না বাচ্চা না নিজে থেকেই কেঁদে ওঠে। কাঁদার পরেও ততক্ষন পর্যন্ত নাড়ী কাটা যাবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না নাড়ীতে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আর কাটার আগে নাড়ীর মধ্যে যেটুকু রক্ত অবশিষ্ট থাকে সেটাকে চাপ দিয়ে বাচ্চার শরীরে দিয়ে দেওয়ার পরেই নাড়ী কাটা যাবে।

● কিছু ব্যাক্তি বলে থাকেন যে জন্মাবার পরেই বাচ্চা না কাঁদলে সেটা কম বুদ্ধির বাচ্চার একটা লক্ষণ। আমাদের মনে হয় যে ওই বাচ্চা কম বুদ্ধি হওয়ার কারণ এটা নয় – যার বিস্তারিত ব্যাখ্যা নীচে দেওয়া হল –

মনে রাখতে হবে যে সবাই মায়ের পেটে নয় মাস না কেঁদেই থাকে, তাই জন্মের পরে যদি বাচ্চা তাড়াতাড়ি না কাঁদেও, তাহলেও তার কোনো সমস্যা হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না নাড়ীর সাথে তার সম্পর্ক ছেদ হচ্ছে। কারণ তাদের heart এর ধুকপুক চালু থাকে, যার থেকে তাদের ব্রেন এবং শরীর রক্ত পায় এবং নাড়ীর মাধ্যমে তাদের শরীরের রক্তে মায়ের শরীর থেকে oxygen এবং অন্য আবশ্যক জিনিস পাওয়া যায়, তাই সে কখনই কম বুদ্ধির হতে পারে না। এই কথাটির বেশি করে প্রচার করা উচিত যে, নাড়ী ততক্ষণ পর্যন্ত কাটা উচিত নয় যতক্ষণ না বাচ্চা নিজে থেকেই ঠিক করে কেঁদে ওঠে।

● হিন্দু শাস্ত্রে বলা হয় যে, জন্মের পরেই বাচ্চাকে মায়ের কাছে তাড়াতাড়ি নিয়ে আসা উচিত। কারণ যাতে বাচ্চা মায়ের heart এর ধুকপুককে তাড়াতাড়ি শুনতে পায় এবং মায়ের শরীরের সাথে স্পর্শ হবার কারণে বাচ্চা নিজেকে সুরক্ষিত মনে করে। এর থেকে মা এবং বাচ্চার সম্বন্ধ সারা জীবন থাকবে।

● বাচ্চা যে fluid এ মা এর পেটে হয়, সেটা antiseptic অর্থাৎ কীটাণুনাশক হয় যা ঈশ্বর বানিয়েছে যাতে সে বাইরের জীবাণু থেকে বাচ্চার ত্বককে রক্ষা করতে পারে। কারণ বাচ্চা একটা তরল amniotic fluid এ থাকে, যার থেকে তার সারা শরীরে একটা irritation হয়ে থাকে, এইকারনে তাকে হালকা গরম জলে স্নান করানো উচিত এবং নরম কম্বলে মুড়িয়ে আরাম দিতে হবে। আর মায়ের কাছে অবশ্যই দিতে হবে যাতে মায়ের শরীরের গরম বাচ্চার সারা জীবন মনে থাকে এবং এটাই বাচ্চাকে আরাম দেবে। তাই জন্মের ঠিক পরেই এই fluid কে পুরোপুরি পরিস্কার করা উচিত নয়, সাত দিন পরে সেটাকে আসতে আসতে পরিস্কার করতে হবে। কিন্তু বর্তমানে nursing home এ জন্মের কিছুক্ষন পরেই বাচ্চাকে পুরোপুরি পরিষ্কার করে সুগন্ধযুক্ত পাউডার লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যা বাচ্চার শরীরের জন্যে সম্ভবত ভালো নয়। আর এরপরে মায়ের কাছে দেওয়া হয় – এটা চিন্তা করবার মতো বিষয়।

● দুধ খাওয়ানোর সময় দুটো কথা মনে রাখতে হবে – প্রথমত বাচ্চাদের পুষ্টির জন্যে মায়ের দুধই হল উপকারি, এটা ততক্ষন পর্যন্ত খাওয়াতে হবে যতক্ষণ না বাচ্চা নিজে থেকে ছেড়ে দেয়। দ্বিতীয়ত দুধ খাওয়ানোর সময় বাচ্চাদের হাত খুলে দিতে হবে, কারণ স্তনে বাচ্চার হাতের স্পর্শেই oxytocin নামক হরমোন বেরোবে, যার ফলে দুধ বেশীমাত্রায় বেরোবে যা বাচ্চাদের জন্যে খুবই উপকারি। এইসময় মায়েদের একই সময় বেশী জল খাওয়ার বদলে অনেক বার কম পরিমাণে জল খেতে হবে, এইরকম না হলে বাচ্চাদের loose motion বা পেটে ব্যাথা হতে পারে। Calcium এর জন্যে মায়েদের দুধ ও খাওয়া উচিত।

● বাচ্চাদের সবসময় দু-হাত দিয়ে ওঠানো উচিত – যে কোনো একটা হাত দিয়ে ওঠালে বাচ্চাদের indigestion, constipation বা loose motions হতে পারে। ● বাচ্চাদের যখন দাঁত বেরোয় তখন জ্বর বা loose motions হতে পারে। ওই সময় বাচ্চাকে ৫০% দুধ এবং ৫০% সাবুদানার জল খাওয়ানো উচিত। এর থেকে loose motions বন্ধ হয়ে যাবে। Loose motions এর ফলে শরীর খারাপ হয়ে যায়। কিন্তু জ্বর দু-দিন পর্যন্ত থাকতে পারে – এটা খারাপ ব্যাপার নয়।



Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *